Education LoanMiscellaneous 

জেনে নিন কীভাবে পাবেন ব্যাঙ্কের শিক্ষা-ঋণ

কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক : করোনাকাল পর্ব। তা অতিক্রম করে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে এখনও বাকি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়াশোনার খরচ বেড়েছে। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষা-ঋণের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। এক সময় ঋণ শুনলেই মধ্যবিত্ত বাঙালির বুকে কাঁপুনি লেগে যেত। বর্তমান সময়ে ক্রেডিট কার্ড, ইএমআই-সহ বিভিন্ন ঋণে বাঙালি অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। শিক্ষা-ঋণ নিয়ে বাঙালির মনের বাধা দূর হয়েছে।

শুধু বিদেশ বা ভিনরাজ্য নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার জন্যও ঋণ গ্রহণ করছেন অনেকেই। সাধারণত, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে পড়ার তাগিদে ঋণ মেলে। প্রযুক্তি বা কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি মূল ধারার পড়াশোনার ক্ষেত্রেও ঋণ পাওয়া যেতে পারে। রাজ্যে, দেশে ও বিদেশে পড়ার ক্ষেত্রেও ঋণ পাওয়া এখন সম্ভব। এক্ষেত্রে বলা হয়েছে, একটা নির্দিষ্ট অঙ্ক পর্যন্ত পারিবারিক আয়ের উপর ঋণ পাওয়া বা না পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে না।

অন্যদিকে কিছু ব্যাঙ্ক মহিলাদের ঋণের সুদে ছাড় দিয়ে থাকে। করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষা ঋণের ক্ষেত্রে আবেদনের সংখ্যা কিছুটা কমেছে, এমনটাই বিভিন্ন ব্যাঙ্ক সূত্রে জানানো হয়েছে। তামিলনাড়ু রাজ্যে এই হ্রাসের হার অনেকটাই বেশি। তবে করোনা আবহ ধীরে-ধীরে কাটছে। এরপর শিক্ষা-ঋণের ক্ষেত্রে জোয়ার আসবে এমনটাও মনে করা হচ্ছে। স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে, সাধারণ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রযুক্তি বা পেশাদার কোর্সে পড়াশোনার জন্য ঋণ দেওয়া হয়।

আবার শিক্ষক, নার্সিং ও পাইলট প্রশিক্ষণ বা চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সি-সহ বিভিন্ন রকম পড়াশোনার জন্যই ঋণ দেওয়া হয়ে থাকে। বিদেশে এই ধরনের পড়াশোনার ক্ষেত্রেও ঋণ দেওয়া হয়ে থাকে। এ বিষয়ে আরও জানা যায়, ঋণ পরিশোধের জন্য সর্বাধিক ১৫ বছর পর্যন্ত সময় পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে পড়াশোনা শেষ করার এক বছর পর থেকে সময়সীমা শুরু হয়। আবার ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে কোনও প্রসেসিং ফি নেওয়া হয় না।

ওই ব্যাঙ্ক সূত্রে আরও খবর, সাড়ে ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত কোনও ‘সিকিওরিটি’ লাগে না। এক্ষেত্রে পড়ুয়ার বাবা বা মাকে ‘কো-বরোয়ার’ হিসেবে রাখা হয়ে থাকে। অন্যদিকে এসবিআই-এর স্কলার লোনও রয়েছে। সেগুলি হল- আইআইটি, আইআইএম বা এনআইটি-র মতো প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়াদের দেওয়া হয়। বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রে সর্বাধিক ১.৫০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়ে থাকে। পাশাপাশি কানাডা ব্যাঙ্ক সূত্রের খবর, শিক্ষা-ঋণের ক্ষেত্রে মোটামুটি ৯ শতাংশ সুদ নেওয়া হয়ে থাকে। এখন বেস রেট রেপো রেটের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় তার হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে থাকে।

এক্ষেত্রে বলা হয়েছে, এই সময় যে রেপো রেট রয়েছে, তাতে এই হারই পড়বে। যা প্রায় ৯ শতাংশ। রেস রেট হল, যে হারের নিচে সুদ নেওয়া যায় না। বেস রেট ব্যাঙ্কের রেপো রেটের সঙ্গে তা যুক্ত। এ বিষয়ে আরও জানা যায়, রেপো রেট বাড়লে বেস রেট সেই হারে বাড়বে। পাশাপাশি রেপো রেট কমলে বেস রেট সেই হারে কমবে।

এক্ষেত্রে বলা হয়েছে, রেপো রেট ৬ শতাংশ হলে বেস রেট হবে ৬ শতাংশ। অন্যদিকে রেপো রেট কমে ৫ শতাংশ হলে, বেস রেট কমবে। এক্ষেত্রে ব্যাঙ্কের হিসেব অনুযায়ী জানা গিয়েছে, মহিলাদের ক্ষেত্রে বেস রেটের সঙ্গে ১.৫০ শতাংশ নেওয়া হয়। বেস রেট ৬ শতাংশ হলে মহিলাদের ক্ষেত্রে তা হবে ৭.৫ শতাংশ। তফশিলি জাতি বা জনজাতির ক্ষেত্রেও সুবিধে রয়েছে। অসংরক্ষিত শ্রেণির পুরুষদের ক্ষেত্রে বেস রেটের উপর আরও ২ শতাংশ যুক্ত করে সুদের হার নির্ণয় করা হয়ে থাকে।

আবার কানাডা ব্যাঙ্কও দেশে ও বিদেশে পড়াশোনার জন্য ঋণ দিয়ে থাকে। সাধারণত, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে পড়ার জন্য এই ঋণ পাওয়া যায়। প্রযুক্তি বা কারিগরি শিক্ষা ছাড়াও মূল ধারার পড়াশোনার ক্ষেত্রেও ঋণ পাওয়া যেতে পারে। এসবিআই-এর স্কলার লোনও রয়েছে। তা মূলত আইআইটি, আইআইএম বা এনআইটি-র মতো প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়াদের দেওয়া হয়ে থাকে। পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে জানা গিয়েছে, শিক্ষা-ঋণের ক্ষেত্রে একাধিক প্রকল্প রয়েছে।

যেমন- বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় পড়ুয়াদের এ দেশে পড়াশোনার জন্য ঋণ দেওয়া হয়ে থাকে। এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক সূত্রের খবর, ৭.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা-ঋণে কোনও ‘কোলেটারাল সিকিওরিটি’ লাগে না। কিছু প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়াদের জন্য রয়েছে ‘প্রতিভা’ প্রকল্প। এক্ষেত্রে ‘কৌশল’ নামে একটি প্রকল্প রয়েছে ভোকেশনাল প্রশিক্ষণের জন্য। বেসরকারি ব্যাঙ্কের মধ্যে এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, ৭.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা-ঋণে কোনও ‘কোলেটারাল সিকিওরিটি’ লাগে না।

আবার ঋণ শোধের ক্ষেত্রে সর্বাধিক সময়সীমা ১৫ বছর। কোর্স শেষ হওয়ার পর ১ বছর ছাড় দেওয়া হয়। ৬ মাসের মধ্যে চাকরি পেলে বা স্ব-নির্ভর হলে ৬ মাস পর থেকেই ঋণ শোধ পর্ব শুরু হয়। এক্ষেত্রে বলা হয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সুদের হার কম হতে পারে। মোরাটোরিয়াম পর্ব শেষ হওয়ার পর যে-কোনও সময়ে পুরো ঋণ বা তার অংশ বিশেষ পরিশোধ করা যায়। এক্ষেত্রে কোনও আলাদা ফি দিতে হয় না।

বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রে সর্বাধিক ৩৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া সম্ভব হয়। এক্ষেত্রে জানা যায়, ৩৬টি দেশে ৯৫০টি কোর্সের ক্ষেত্রে এই ঋণ দেওয়া হয়ে থাকে। ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে যেসব জিনিস প্রয়োজন তা হল- দশম থেকে সর্বশেষ স্তরের মার্কশিট, প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার নথি পাসপোর্ট মাপের ছবি কোনও স্কলারশিপ বা ফ্রিশিপ পেলে তার নথি অভিভাবকের আয়ের প্রমাণ-সহ নথিগুলি।

তবে বিভিন্ন ব্যাঙ্কে এর কিছু পার্থক্য রয়েছে। কোন প্রকল্পে ঋণ নেওয়া হচ্ছে, সেই অনুযায়ী বাড়তি কিছু নথি প্রয়োজন হয়। সেগুলি ব্যাঙ্কের আধিকারিকরা নির্দিষ্ট করে বলে দেন। বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রে পাসপোর্টও নথি হিসেবে প্রয়োজন। ঋণের আবেদনের সময়ই এগুলি জানিয়ে দেওয়া হয়। বিভিন্ন ব্যাঙ্কের বক্তব্য হল- ভর্তি হওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। তা না হলে ব্যাঙ্কের ঋণ পাওয়া যাবে না। প্রতিটি ব্যাঙ্কেই স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের তালিকা রয়েছে। সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে ইউজিসি ও প্রযুক্তি শিক্ষার ক্ষেত্রে অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিক্যাল এডুকেশন (এআইসিটিই) এবং ডাক্তারি পড়ার ক্ষেত্রে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন (এনএমসি)-এর স্বীকৃত দরকার হয়। বিদেশের ক্ষেত্রেও সেই দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র ও আন্তর্জাতিক মান ও স্বীকৃতি সম্পর্কে বিশদে খোঁজ-খবর নেওয়া দরকার। তাহলেই ব্যাঙ্কের ঋণ পাওয়া সম্ভব হবে।

Related posts

Leave a Comment